মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ঐতিহ্যবাহী মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের নৌকা বাইচ

 

দেশজ সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। বিশাল উৎসব মুখর পরিবেশে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে লাখো মানুষের ঢল নামে। বন্দর নগরী মিরকাদিম থেকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা দেখতে বিভিন্ন অঞ্চলের লোক আসে। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগীতায় ৬০ মাল্লা, ৫০ মাল্লা এবং ২৫ মাল্লার নৌকা অংশগ্রহণ করে থাকে।

 

মুন্সীগঞ্জে হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান মিলেছে। প্রত্নসম্পদ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে চালানো খনন কাজের মাধ্যমে এ বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কৃত হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতত্ত্ব খনন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এরই মধ্যে বৌদ্ধ বিহারের পাঁচটি ভিক্ষু কক্ষ উন্মোচিত হয়েছে। একেকটি ভিক্ষু কক্ষের পরিমাপ ৩ দশমিক ৫ মিটার (দৈর্ঘ্য) ও ৩ দশমিক ৫ মিটার (প্রস্থ)। ধারণা করা হচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্মের জ্ঞান তাপস অতীশ দ্বীপঙ্করের সঙ্গে এ বৌদ্ধ বিহারের সম্পর্ক রয়েছে।
আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহারের নকশা অনুযায়ী এর একটি প্রাচীর দেয়াল উত্তর দিকেও অপর আরেকটি দেয়াল পশ্চিম দিকে ধাবমান বলে নিশ্চিত হয়েছেন খননকারীরা। যেসব ভিক্ষু কক্ষ উন্মোচিত হয়েছে তা বৌদ্ধ বিহারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত।মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মের পণ্ডিত ও বিশ্বের দ্বিতীয় বুদ্ধ অতীশ দ্বীপঙ্করের বাস্তুভিটার কাছে সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ও রামপাল অঞ্চলে প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ উদ্ধারে ২০১১ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব জরিপ ও খনন কাজ হাতে নেয়া হয়। অগ্রসর বিক্রমপুর নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্প এখন কাজ করে আসছে। প্রত্নতত্ত্ব খনন কাজের গবেষণা পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল প্রত্ন-খননকারী এ খনন কাজ করে আসছেন।
বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কারের ফলে বিক্রমপুর অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিশ্বের দরবারে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করা হয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বে জায়গা করে নেবে আবিষ্কৃত এ বৌদ্ধ বিহার এমনটাই জানিয়েছেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে খনন কাজ প্রকল্প স্থানে সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও খনন ওগবেষণা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, গবেষণা পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান সহ সংগঠনের সদস্যরা।

 

 

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের কলা

 

কলা একদা মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর তথা রামপালের কলার প্রচুর খ্যাতি ছিল দেশ-বিদেশে।দেশের চাহিদা মিটিয়ে রামপালের ওই কলা যেতো মধ্য প্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকায়। সেই কলা এতই সুস্বাদু ছিল যে, একবার খেলে মুখে লেগে লাগতো অনেকটা সময় ধরে। রামপাল সারা বিশ্ব জুড়ে পরিচিত হয়ে উঠে এ কলার কারনেই।

মুন্সীগঞ্জ শহরের পূর্বাংশের এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেওভোগ, শিলমন্দি, বৈখর। বল্লাল রাজার রামপালের প্রতিটি বাড়িই ছিল এক একটি কলার বাগান। এক চিলতে ফাঁকা জায়গা পেলেই কলা চাষীরা সেটাকে কাজে লাগাতো ওই কলাচাষ করে। খাওয়ার মধ্যে বেশ মজাদার ছিল রামপালের কলা। এর ভেতরে এক সুঘ্রান পাওয়া যেতো যা মানুষের আহারের তৃপ্তি মেটাতো।